About
২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়, কিশোর কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক একটি সংগঠনের পরিকল্পনা শুরু হয় যা উক্ত বছরের ২৫ জুন কুমিল্লা শহরে ৫ জন সদস্য নিয়ে সোশাল মিডিয়া, ফেসবুকে "Mental Health Care" নামে আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় তিন সহস্রাধিক। সেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা এবং দেশব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসারে সংগঠনটি বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদানের পরিকল্পনায় প্রজেক্ট "লাইফ কেয়ার" এদের মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি সদস্যদের সাইকো সোশাল এডভোকেসির ট্রেনিং প্রদান এর পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য বিভিন্ন অনলাইন সেশনের আয়োজন করছে। প্রথম ১ বছরে সংগঠনটি প্রায় অর্ধশতাধিক নিয়মিত সদস্যের অংশগ্রহণে ২ টি অফলাইন ও ৩৫ টি অনলাইন সেশন আয়োজন করেছে। "মেন্টাল হেলথ্ কেয়ার" এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় ৩৮০০ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছুতে পেরেছে এবং দিনদিন এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃতিত্বের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচারের ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত সংগঠনটি "White Dove", "Healthy Life America" এবং "Save the Tomorrow" ইত্যাদি সংগঠনের দ্বারা আমন্ত্রিত হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় শাখা কুমিল্লার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় এবং বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও সংগঠনটির শাখা রয়েছে যেখানে প্রায় দুই শতাধিক নিয়মিত সদস্য সক্রিয় রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য এর যত্ন নেয়াটা মৌলিক অধিকার এর অন্তর্ভুক্ত! কিন্তু আমরা আসলে পারসোনাল বা প্রফেশনাল লাইফ নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে উঠছি যে আসলে এসব নিয়ে ভাবার জন্য ২ মিনিট সময় ও নেই!
হোচঁট খেয়ে পড়ে গেলেও কিন্তু আমরা পায়ে মলম লাগাই শুধু মানসিক স্বাস্থ্য এর বেলায় আমাদের যত রকম খামখেয়ালি।
একটু লজিক্যালি ভাবেন একজন ক্যান্সার পেশেন্ট এর রোগী কিন্তু তার যন্ত্রনা সহ্য হচ্ছে না বলে আত্নহত্যা করে না। বরং যদি তার মানসিক মনোবল দৃঢ় থাকে তিনি শেষ দিন অবদি লড়াই করে যান।
কিন্তু একজন মানুষ মানসিক যন্ত্রণা না সহ্য করতে পেরে সুইসাইড অবদি চলে যায়। ব্যাপারটা কি পরিমান ডিপ! কি পরিমান যন্ত্রণা অনুভব হলে ভিক্টিম নিজেকে মেরে ফেলতে পারে!
আপনার শরীর আর মন দুটো একে অপরের সাথে কানেক্টেড! একটু লজিক্যালি ভাবলে আপনি নিজেই সেটা বুঝতে পারবেন। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়াটা সেক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ন!
আমরা আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কাজ করতে চাই। এই ব্যাপারে যত রকম ভাবে জানানো সম্ভব হয় আমরা জানাবো। কিভাবে নিজের মনোবল টা আরো শক্ত করে ধরে রাখবেন। নিজেকে মানসিক ভাবে স্ট্রং করবেন। এছাড়াও এই সমস্ত রিলেটেড আপনার যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমরা সব সময় কাজ করতে আগ্রহী। যেসব কষ্ট বা যন্ত্রনা আপনাকে কুড়ে কুড়ে শেষ করে দিচ্ছে আপনি নির্দ্বিধায় আমাদের সাথে সেটা শেয়ার করতে পারবেন। এছাড়াও নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার এর সুযোগ ও পাবেন।
আমাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন আপনাকে, আপনি আপনার মানসিক স্বাস্থ্য এর ব্যাপারে সচেতন একজন নাগরিক।



Post a Comment